ঢাকা 12:31 pm, Saturday, 4 February 2023

লাজারাস, হ্যাকিং গ্রুপ লাজারাস

  • আপডেট সময় : 12:15:36 pm, Saturday, 17 September 2022 86 বার পড়া হয়েছে

লাজারাস হ্যাকিং গ্রুপ লাজারাস-২০১৪ ও ২০১৬ এই ২ বছরের ২টি হ্যাকিং এর ঘটনা সারা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। যার একটি ছিল হলিউডের SONY PICTURE ও অপরটি ছিল বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ চপেয়াচে..লাজারাস হ্যাকিং গ্রুপ লাজারাস

আপাতদৃষ্টিতে ঘটনা 2টি আলাদা মনে হলেও এই দুই ঘটনার মধ্যে কিন্তু একটা বিষয়ে মিল ছিল। তা হলো “লাজারাস গ্রুপ “নামের একটা সাইবার ক্রাইম গ্রুপ। যা উত্তর কোরিয়ার একটি হ্যাকিং গ্রুপ।

চলুন আগে জেনে নেই বাংলাদেশ ব্যাংকে সেদিন কি ঘটেছিল।

২০১৬ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক লুট করতে কনকনা শীতের মধ্যে সকাল বেলাকেই ঠিক সময় বলে মনে করেছিল সাইবার ক্রাইম অপরাধের একটি চক্র। দিনটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন। বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে গায়েব হয়ে যায় “” ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার “”।

এটা দ্যা ডার্ক নাইট সিনেমার মতো বন্দুক হাতে নিয়ে ব্যাংকে প্রবেশ করে টাকা নেওয়ার মতো ঘটনা নয়। এই সাইবার চুরি কিভাবে করা হয়েছিল তা জানলে রীতিমতো গায়ের লোম খাড়া হয়ে যাবে।। যে ঘটনার মূল কারণ বলা যায় একটি ত্রুটিযুক্ত প্রিন্টার। এই প্রিন্টার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অত্যন্ত সুরক্ষিত ঘরে ছিল। খুব কম মানুষের অনুমতি ছিল এই প্রিন্টার ব্যবহার করার। কারণ হলো ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ সব কম্পিউটারের সাথে যুক্ত ছিল এই প্রিন্টারটি। চুরির দিন প্রিন্টারটি ঝামেলা করছিল৷ এতে কেউ তেমন পাত্তা না দেয়। কিন্তু পাত্তা দেওয়া দরকার ছিল। পরের দিন প্রিন্টার ঠিক করা হবে এই ভেবে সবাই ব্যাংক থেকে চলে যায়।

লাজারাস হ্যাকিং গ্রুপ লাজারাস

কিন্তু হ্যাকার দল বসে ছিল না।

মূলত এই প্রিন্টারের মাধ্যমেই হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ঢুকে পড়ে। যার ফলে সংঘটিত হয় এ যুগের সবচেয়ে বড় সাইবার হামলা।। কিন্তু লাজারাস গ্রুপ তাদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা সরাতে পারে নি।। তাদের লক্ষ্য ছিল ১বিলিয়ন ডলার চুরি করা। এই চুরির পরিকল্পনা অনেক আগে থেকেই করেছিল উত্তর কোরিয়ার এই হ্যাকিং গ্রুপ। তাদের লক্ষ্য পুরোন করতে ১৫ সালের দিকে ব্যাংকে কাজ চেয়ে ভূয়া আবেদন করা হয়।

এই আবেদন ইমেইলে ” রাসেল আহলাম ” নামে একজন তার কভার লেটার ডাউনলোড করার একটি লিংক দিয়েছিল। ব্যাংকের কোন এক কর্মকর্তা হ্যাকিং গ্রুপ এর ফাঁদে পা দেয়। কভার লেটার ডাউনলোড করার জন্য লিংকে ক্লিক করতেই কম্পিউটারে ঢুকে পড়ে ম্যালওয়্যার। এই ম্যালওয়ারের মাধ্যমে হ্যাকাররা সব কম্পিউটারে ছড়িয়ে পরে। বাস্তবে ” রাসেল আহলাম ” নামে কেউ ওই ইমেইল করে নি।। এটা ছিল হ্যাকারদের একটা চাল। যাতে ব্যাংকের কর্মকর্তারা কিছু বুঝতে না পারে।।

এবার দেখে আসি ” SONY PICTURE ” এর ক্ষেত্রে কি হয়েছিল।

SONY PICTURE এর কর্মীরা তাদের কম্পিউটারে লগইন করার সময় একটা লাল কংকালের ছবি যুক্ত ভেসে ওঠে একটি লেখা। যাতে লেখা ছিল ” YOUR COMPUTER HAS HACKED BY GOP”। হ্যাকাররা GOP মানে ” GUARDIANS OF PEACE ” নামে হামলা চালিয়েছিলো। হ্যাকাররা SONY PICTURE থেকে বিপুল পরিমাণ তথ্য হাতিয়ে নেয়।

লাজারাস হ্যাকিং গ্রুপ লাজারাস

যার মধ্যে ছিল SONY PICTURE

এর কর্মচারী ও তাদের পরিবারের ব্যক্তিগত তথ্য, কর্মচারীদের ইমেইল, কোম্পানির বেতন সংক্লান্ত নানান তথ্য। আরো ছিল SONY PICTURE এর অনেক অপ্রকাশিত ছবি, কোম্পানি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, ছবির স্ক্রিপ্ট।

মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, কেন SONY PICTURE এর মতো ছবি বানানো কোম্পানি থেকে ব্যাংকের অর্থ চুরি করতে গেল। এই প্রশ্নের গভীরেই লুকিয়ে আছে লাজারাস গ্রুপের আসল রুপ। উত্তর কোরিয়ার কিং জং ঊন কে নিয়ে তৈরি করা সিনেমা ” THE INTERVIEW” এর প্রতিশোধ হিসাবে এই হালমা চালানো হয়।

লাজারাস হ্যাকিং গ্রুপ লাজারাস

লাজারাস গ্রুপ শুধু একটি হ্যাকার গ্রুপেই নয় এর পিছনে রয়েছে স্বয়ং উত্তর কোরিয়ার প্রচ্ছন্ন মদদ।

বর্তমানে সব প্রযুক্তি কোম্পানিই তাদের তৈরি পণ্য গুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তা পারছে কই। শতভাগ নিরাপত্তার গ্যারান্টি কেউ দিতে পারছে না। না গুগল, না অ্যাপল, না মাইক্রোসফট বা অন্য টেক কোম্পানি গুলো। যার ফলে সাইবার আক্রমণ আগের থেকে আরো বেশি এবং শক্তিশালী হয়ে উঠছে। বেশ কিছু কারণে উত্তর কোরিয়ার মুদ্রার মান ধারাবাহিকভাবে কমেছে। বলা হয় এখন উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতিই বেঁচে আছে এই লাজারাস গ্রুপের কারণে। সাম্প্রতিক সময়ে হওয়া সফল ও ধ্বংসাত্মক আক্রমণগুলোর মূল হোতা লাজারাস গ্রুপ কখনো ডার্কসিউল, গার্ডিয়ান অফ পিস & হিডেন কোবরা নামেও পরিচিত।

লাজারাস নামের রহস্যঃ

বাইবেল থেকে এই নাম নেওয়া হয়েছে। লাজারাস নামের এক লোক মৃত লোকের মাঝ থেকে ফিরে এসেছিল। নিজেদের জন্যই এমন একটা নাম বেচে নিয়েছিল এই হ্যাকার গ্রুপ। নামে কি আসে যায়, কাজেই বুঝিয়ে দেয় লাজারাস গ্রুপ কি জিনিস।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার, এনএসএ এবং এফবিআই এই গ্রুপটিকে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক তালিকার শির্ষে রেখেছে।

লাজারাস হ্যাকিং গ্রুপ লাজারাস

লাজারাস গ্রুপ

যে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতির জন্য কাজ করে এই বিষয়ে কোন সঠিক প্রমাণ পাওয়া যায় নি। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা আত্মবিশ্বাসের সাথেই বলে লাজারাস গ্রুপ উত্তর কোরিয়ার জন্যই কাজ করে থাকে। মার্কিন সরকার বরাবরই বলে আসছে যে তাদের কাছে শক্তিশালী প্রমাণ আছে লাজারাস গ্রুপের পিছনে উত্তর কোরিয়ার মদদ সুস্পষ্ট। কিন্তু এফবিআই যেসব তথ্য প্রকাশ করেছে তা এখনো অনেক দূর্বল।

এটা এটাতাই দূর্বল যে সে সবের সমালোচনা করেছেন স্বয়ং আমেরিকার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। NATIONAL SECURITY AGENCY US OF AMERICA বলেছে তাদের কাছে লাজারাস গ্রুপ সম্পর্কে যথেষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তা নিরাপত্তার জন্য প্রকাশ করা যায় নি। কারণ লাজারাস গ্রুপের আক্রমণ শুধু SONY PICTURE এ সীমাবদ্ধতা নয়, বরং আমেরিকার পরাষ্ট্রনীতি, যুদ্ধ এমন কি আমেরিকার জন্য ভবিষ্যতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।

লাজারাস হ্যাকিং গ্রুপ লাজারাস

সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন একটা দেশ,

যেখানে কম্পিউটার ব্যবহার করা নিষিদ্ধ, ইন্টারনেটও নেই এমন একটি দেশ কি হ্যাকিং এ এতো দক্ষ হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে উত্তর কোরিয়া হ্যাকিং এ ভয়ংকরভাবে দক্ষ।
যখন উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছিল তখন সেই অবস্থায় তারা সাইবার ক্রাইমকেই অর্থনীতি চাঙ্গা করার অন্যতম উপায় হিসাবে ব্যবহার করছে।

উত্তর কোরিয়ার যে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে তা বিকাশ করার জন্য প্রচুর অর্থের দরকার। সেই বিপুল অর্থেই জোগানও আসছে এ হ্যাকিং থেকে । বিশ্বে ইন্টারনেট যতই প্রসারিত হচ্ছে লাজারাস গ্রুপের জন্য সাইবার ক্রাইম এর দ্বার ততই খুলে যাচ্ছে। এফবিআই জানিয়েছে, বহু আগে থেকেই সুপরিকল্পিত ভাবে নিজেদের দক্ষ করেছে লাজারাস গ্রুপের সদস্যরা এবং পরিকল্পিতভাবেই অন্যান্য দেশ অর্থ চুরি করছে। এই গ্রুপ এর ১ম আক্রমণ ” OPERATION FLAME ” নামে পরিচিত ছিল।

যা ২০০৭ সালে পরিচালিত হয়েছিল।

২০০৯ ও ২০১৪ সাল পর্যন্ত এই গ্রুপ অনেক সাইবার আক্রমণ করে। কিন্তু ২০১৪ সালে SONY PICTURE এর আক্রমণ এই গ্রুপকে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। ২০১৫ সাল থেকে লাজারাস গ্রুপ বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে আক্রমণ চালাতে শুরু করে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হল, বর্তমানে লাজারাস গ্রুপের একটাই লক্ষ্য, যা হল ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করা।

২০১৭ সালের মে মাসে WANNACRY নামের একটি ভাইরাসের মাধ্যমে কয়েক লাখ কম্পিউটার হাইজ্যাক করেছিল এই গ্রুপ। এই আক্রমণের ফলে ক্ষতি হয় ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি।।

একটু অন্য দিকে যাওয়া যাক।

লাজারাস গ্রুপের ব্যাপারে কোন তথ্যই জানা যায় নি। কিন্তু এফবিআই সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেফতার করে। যার৷ নাম ছিল PARK ZIN HYOK.
তিনি বলেন যে, সে একজন কম্পিউটার প্রোগ্রামার । তিনি নাকি সশুন এক্সপো তে কাজ করেন। তিনি ২০১৪ সালে সনি হ্যাক, ২০১৬ বাংলাদেশ ব্যাংক হ্যাক , ২০১৭ সালে ওয়ান্নাক্রাই আক্রমণ এর সাথে যুক্ত ছিলেন।

পার্ক কিন্তু রাতারাতি হ্যাকার হয় নি। তিনি উত্তর কোরিয়ার হাজার হাজার তরুণদের একজন ছিল যাকে কিনা কিশোর বয়স থেকেই হ্যাকিং এর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। প্রতিভাধর গণিতবিদেরা ১২ বছর বয়সে স্কুল থেকে তাঁকে নিয়ে আসেন সিউলে। যেখানে তাকে হ্যাকিং এ পারদর্শী করা হয়৷ আর এখনোও উত্তর কোরিয়ায় এই ভাবে ভবিষ্যৎ সাইবার যোদ্ধাদের তৈরি করা হচ্ছে।

আজ এ পর্যন্ত।

See more….

ড্রোন কি? যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ব্যবহার।

ট্যাগস :

লাজারাস, হ্যাকিং গ্রুপ লাজারাস

আপডেট সময় : 12:15:36 pm, Saturday, 17 September 2022

লাজারাস হ্যাকিং গ্রুপ লাজারাস-২০১৪ ও ২০১৬ এই ২ বছরের ২টি হ্যাকিং এর ঘটনা সারা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। যার একটি ছিল হলিউডের SONY PICTURE ও অপরটি ছিল বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ চপেয়াচে..লাজারাস হ্যাকিং গ্রুপ লাজারাস

আপাতদৃষ্টিতে ঘটনা 2টি আলাদা মনে হলেও এই দুই ঘটনার মধ্যে কিন্তু একটা বিষয়ে মিল ছিল। তা হলো “লাজারাস গ্রুপ “নামের একটা সাইবার ক্রাইম গ্রুপ। যা উত্তর কোরিয়ার একটি হ্যাকিং গ্রুপ।

চলুন আগে জেনে নেই বাংলাদেশ ব্যাংকে সেদিন কি ঘটেছিল।

২০১৬ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক লুট করতে কনকনা শীতের মধ্যে সকাল বেলাকেই ঠিক সময় বলে মনে করেছিল সাইবার ক্রাইম অপরাধের একটি চক্র। দিনটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন। বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে গায়েব হয়ে যায় “” ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার “”।

এটা দ্যা ডার্ক নাইট সিনেমার মতো বন্দুক হাতে নিয়ে ব্যাংকে প্রবেশ করে টাকা নেওয়ার মতো ঘটনা নয়। এই সাইবার চুরি কিভাবে করা হয়েছিল তা জানলে রীতিমতো গায়ের লোম খাড়া হয়ে যাবে।। যে ঘটনার মূল কারণ বলা যায় একটি ত্রুটিযুক্ত প্রিন্টার। এই প্রিন্টার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অত্যন্ত সুরক্ষিত ঘরে ছিল। খুব কম মানুষের অনুমতি ছিল এই প্রিন্টার ব্যবহার করার। কারণ হলো ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ সব কম্পিউটারের সাথে যুক্ত ছিল এই প্রিন্টারটি। চুরির দিন প্রিন্টারটি ঝামেলা করছিল৷ এতে কেউ তেমন পাত্তা না দেয়। কিন্তু পাত্তা দেওয়া দরকার ছিল। পরের দিন প্রিন্টার ঠিক করা হবে এই ভেবে সবাই ব্যাংক থেকে চলে যায়।

লাজারাস হ্যাকিং গ্রুপ লাজারাস

কিন্তু হ্যাকার দল বসে ছিল না।

মূলত এই প্রিন্টারের মাধ্যমেই হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ঢুকে পড়ে। যার ফলে সংঘটিত হয় এ যুগের সবচেয়ে বড় সাইবার হামলা।। কিন্তু লাজারাস গ্রুপ তাদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা সরাতে পারে নি।। তাদের লক্ষ্য ছিল ১বিলিয়ন ডলার চুরি করা। এই চুরির পরিকল্পনা অনেক আগে থেকেই করেছিল উত্তর কোরিয়ার এই হ্যাকিং গ্রুপ। তাদের লক্ষ্য পুরোন করতে ১৫ সালের দিকে ব্যাংকে কাজ চেয়ে ভূয়া আবেদন করা হয়।

এই আবেদন ইমেইলে ” রাসেল আহলাম ” নামে একজন তার কভার লেটার ডাউনলোড করার একটি লিংক দিয়েছিল। ব্যাংকের কোন এক কর্মকর্তা হ্যাকিং গ্রুপ এর ফাঁদে পা দেয়। কভার লেটার ডাউনলোড করার জন্য লিংকে ক্লিক করতেই কম্পিউটারে ঢুকে পড়ে ম্যালওয়্যার। এই ম্যালওয়ারের মাধ্যমে হ্যাকাররা সব কম্পিউটারে ছড়িয়ে পরে। বাস্তবে ” রাসেল আহলাম ” নামে কেউ ওই ইমেইল করে নি।। এটা ছিল হ্যাকারদের একটা চাল। যাতে ব্যাংকের কর্মকর্তারা কিছু বুঝতে না পারে।।

এবার দেখে আসি ” SONY PICTURE ” এর ক্ষেত্রে কি হয়েছিল।

SONY PICTURE এর কর্মীরা তাদের কম্পিউটারে লগইন করার সময় একটা লাল কংকালের ছবি যুক্ত ভেসে ওঠে একটি লেখা। যাতে লেখা ছিল ” YOUR COMPUTER HAS HACKED BY GOP”। হ্যাকাররা GOP মানে ” GUARDIANS OF PEACE ” নামে হামলা চালিয়েছিলো। হ্যাকাররা SONY PICTURE থেকে বিপুল পরিমাণ তথ্য হাতিয়ে নেয়।

লাজারাস হ্যাকিং গ্রুপ লাজারাস

যার মধ্যে ছিল SONY PICTURE

এর কর্মচারী ও তাদের পরিবারের ব্যক্তিগত তথ্য, কর্মচারীদের ইমেইল, কোম্পানির বেতন সংক্লান্ত নানান তথ্য। আরো ছিল SONY PICTURE এর অনেক অপ্রকাশিত ছবি, কোম্পানি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, ছবির স্ক্রিপ্ট।

মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, কেন SONY PICTURE এর মতো ছবি বানানো কোম্পানি থেকে ব্যাংকের অর্থ চুরি করতে গেল। এই প্রশ্নের গভীরেই লুকিয়ে আছে লাজারাস গ্রুপের আসল রুপ। উত্তর কোরিয়ার কিং জং ঊন কে নিয়ে তৈরি করা সিনেমা ” THE INTERVIEW” এর প্রতিশোধ হিসাবে এই হালমা চালানো হয়।

লাজারাস হ্যাকিং গ্রুপ লাজারাস

লাজারাস গ্রুপ শুধু একটি হ্যাকার গ্রুপেই নয় এর পিছনে রয়েছে স্বয়ং উত্তর কোরিয়ার প্রচ্ছন্ন মদদ।

বর্তমানে সব প্রযুক্তি কোম্পানিই তাদের তৈরি পণ্য গুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তা পারছে কই। শতভাগ নিরাপত্তার গ্যারান্টি কেউ দিতে পারছে না। না গুগল, না অ্যাপল, না মাইক্রোসফট বা অন্য টেক কোম্পানি গুলো। যার ফলে সাইবার আক্রমণ আগের থেকে আরো বেশি এবং শক্তিশালী হয়ে উঠছে। বেশ কিছু কারণে উত্তর কোরিয়ার মুদ্রার মান ধারাবাহিকভাবে কমেছে। বলা হয় এখন উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতিই বেঁচে আছে এই লাজারাস গ্রুপের কারণে। সাম্প্রতিক সময়ে হওয়া সফল ও ধ্বংসাত্মক আক্রমণগুলোর মূল হোতা লাজারাস গ্রুপ কখনো ডার্কসিউল, গার্ডিয়ান অফ পিস & হিডেন কোবরা নামেও পরিচিত।

লাজারাস নামের রহস্যঃ

বাইবেল থেকে এই নাম নেওয়া হয়েছে। লাজারাস নামের এক লোক মৃত লোকের মাঝ থেকে ফিরে এসেছিল। নিজেদের জন্যই এমন একটা নাম বেচে নিয়েছিল এই হ্যাকার গ্রুপ। নামে কি আসে যায়, কাজেই বুঝিয়ে দেয় লাজারাস গ্রুপ কি জিনিস।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার, এনএসএ এবং এফবিআই এই গ্রুপটিকে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক তালিকার শির্ষে রেখেছে।

লাজারাস হ্যাকিং গ্রুপ লাজারাস

লাজারাস গ্রুপ

যে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতির জন্য কাজ করে এই বিষয়ে কোন সঠিক প্রমাণ পাওয়া যায় নি। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা আত্মবিশ্বাসের সাথেই বলে লাজারাস গ্রুপ উত্তর কোরিয়ার জন্যই কাজ করে থাকে। মার্কিন সরকার বরাবরই বলে আসছে যে তাদের কাছে শক্তিশালী প্রমাণ আছে লাজারাস গ্রুপের পিছনে উত্তর কোরিয়ার মদদ সুস্পষ্ট। কিন্তু এফবিআই যেসব তথ্য প্রকাশ করেছে তা এখনো অনেক দূর্বল।

এটা এটাতাই দূর্বল যে সে সবের সমালোচনা করেছেন স্বয়ং আমেরিকার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। NATIONAL SECURITY AGENCY US OF AMERICA বলেছে তাদের কাছে লাজারাস গ্রুপ সম্পর্কে যথেষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তা নিরাপত্তার জন্য প্রকাশ করা যায় নি। কারণ লাজারাস গ্রুপের আক্রমণ শুধু SONY PICTURE এ সীমাবদ্ধতা নয়, বরং আমেরিকার পরাষ্ট্রনীতি, যুদ্ধ এমন কি আমেরিকার জন্য ভবিষ্যতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।

লাজারাস হ্যাকিং গ্রুপ লাজারাস

সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন একটা দেশ,

যেখানে কম্পিউটার ব্যবহার করা নিষিদ্ধ, ইন্টারনেটও নেই এমন একটি দেশ কি হ্যাকিং এ এতো দক্ষ হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে উত্তর কোরিয়া হ্যাকিং এ ভয়ংকরভাবে দক্ষ।
যখন উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছিল তখন সেই অবস্থায় তারা সাইবার ক্রাইমকেই অর্থনীতি চাঙ্গা করার অন্যতম উপায় হিসাবে ব্যবহার করছে।

উত্তর কোরিয়ার যে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে তা বিকাশ করার জন্য প্রচুর অর্থের দরকার। সেই বিপুল অর্থেই জোগানও আসছে এ হ্যাকিং থেকে । বিশ্বে ইন্টারনেট যতই প্রসারিত হচ্ছে লাজারাস গ্রুপের জন্য সাইবার ক্রাইম এর দ্বার ততই খুলে যাচ্ছে। এফবিআই জানিয়েছে, বহু আগে থেকেই সুপরিকল্পিত ভাবে নিজেদের দক্ষ করেছে লাজারাস গ্রুপের সদস্যরা এবং পরিকল্পিতভাবেই অন্যান্য দেশ অর্থ চুরি করছে। এই গ্রুপ এর ১ম আক্রমণ ” OPERATION FLAME ” নামে পরিচিত ছিল।

যা ২০০৭ সালে পরিচালিত হয়েছিল।

২০০৯ ও ২০১৪ সাল পর্যন্ত এই গ্রুপ অনেক সাইবার আক্রমণ করে। কিন্তু ২০১৪ সালে SONY PICTURE এর আক্রমণ এই গ্রুপকে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। ২০১৫ সাল থেকে লাজারাস গ্রুপ বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে আক্রমণ চালাতে শুরু করে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হল, বর্তমানে লাজারাস গ্রুপের একটাই লক্ষ্য, যা হল ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করা।

২০১৭ সালের মে মাসে WANNACRY নামের একটি ভাইরাসের মাধ্যমে কয়েক লাখ কম্পিউটার হাইজ্যাক করেছিল এই গ্রুপ। এই আক্রমণের ফলে ক্ষতি হয় ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি।।

একটু অন্য দিকে যাওয়া যাক।

লাজারাস গ্রুপের ব্যাপারে কোন তথ্যই জানা যায় নি। কিন্তু এফবিআই সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেফতার করে। যার৷ নাম ছিল PARK ZIN HYOK.
তিনি বলেন যে, সে একজন কম্পিউটার প্রোগ্রামার । তিনি নাকি সশুন এক্সপো তে কাজ করেন। তিনি ২০১৪ সালে সনি হ্যাক, ২০১৬ বাংলাদেশ ব্যাংক হ্যাক , ২০১৭ সালে ওয়ান্নাক্রাই আক্রমণ এর সাথে যুক্ত ছিলেন।

পার্ক কিন্তু রাতারাতি হ্যাকার হয় নি। তিনি উত্তর কোরিয়ার হাজার হাজার তরুণদের একজন ছিল যাকে কিনা কিশোর বয়স থেকেই হ্যাকিং এর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। প্রতিভাধর গণিতবিদেরা ১২ বছর বয়সে স্কুল থেকে তাঁকে নিয়ে আসেন সিউলে। যেখানে তাকে হ্যাকিং এ পারদর্শী করা হয়৷ আর এখনোও উত্তর কোরিয়ায় এই ভাবে ভবিষ্যৎ সাইবার যোদ্ধাদের তৈরি করা হচ্ছে।

আজ এ পর্যন্ত।

See more….

ড্রোন কি? যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ব্যবহার।