ঢাকা 10:53 am, Saturday, 4 February 2023

হারানো এমএইচ ৩৭০ বিমান

  • আপডেট সময় : 10:45:43 pm, Tuesday, 20 September 2022 45 বার পড়া হয়েছে

হারানো এমএইচ ৩৭০ বিমান-বিমান গায়েব হয়ে যাবার ঘটনা অনেকে বিশ্বাস করেন না। কিন্তু বিজ্ঞান, অনুমান, সার্চ অপারেশন কিংবা গবেষণা কোনটাই খুজে পায় নি ৮ বছর আগে আকাশ থেকে হারিয়ে যাওয়া MH 370 বিমানের সন্ধান দিতে। পৃথিবীর অনেক অমীমাংসিত ঘটনার মধ্যে একটা হলো মালয়েশিয়ার বিমান এমএইচ ৩৭০ হারিয়ে যাওয়া।

হারানো এমএইচ ৩৭০ বিমান

এমএইচ ৩৭০ বিমান ২০১৪ সালের ৮ ই মার্চ কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিং এর দিয়ে যাত্রা শুরু করে।
বোয়িং বিমানটি যেন আকাশেই শুণ্যে মিলিয়ে গিয়েছিল সেইদিন। এই বিমান রাত ১২ টা ৪১ মিনিটে কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর থেকে ২২৭ জন যাত্রী ও ১২ জন ক্রু সদস্য নিয়ে বেইজিং এর দিকে উড়ে যায়। কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, এই বিমান কিন্তু আজও তার যাত্রা শেষ করে নি। এই বিমান এখন কোথায় আছে তাও জানেন না কেউ। চলুন একটু বিস্তারিত জেনে নেই।

শেষ বার্তাঃ

ভোর ৬টার দিকে বেইজিং বিমানবন্দরে পৌছানোর কথা ছিল বিমানটির।কিন্তু উড়াল দেবার ১ঘন্টা পরে বিমানটির সাথে কন্ট্রোল অফিসের সকল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সংযোগ বিচ্ছিন্ন হবার আগ পর্যন্ত বিমান থেকে কোনপ্রকার বিপদ সংকেত কিংবা বিশেষ সংকেত কন্ট্রোল ইউনিটে পাঠানো হয় নি। পরে জানা যায়, রাত ১টা ১৯ মিনিটে শেষ বার্তা আসে কো-পাইলটের কাছ থেকে। এই বার্তাটি পাঠানো হয় বেইজিং এর Ho Chi Minh বিমানবন্দরে। কো-পাইলট বলেছিলেন, ” 12.9 GOODNIGHT “। যার মানে হল” সব ঠিক আছে, শুভরাত্রি”।

হারানো এমএইচ ৩৭০ বিমান

শেষ যোগাযোগঃ

কো-পাইলটের বার্তা আসার ২ মিনিট পর রাত ১ টা ২১ মিনিটে ভিয়েতনামের দক্ষিণে প্রবেশ করার পর সব সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিমান তখন ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতায় উপরে ছিল। কোন প্রকার যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না বিমানের । পাইলট বিপদ বুঝতে পারলে কন্ট্রোল রুমে ” May Day ” সংকেত পাঠায়। যার অর্থ হল ” সাহায্য চাই”। এই রকম কোন সংকেত আসে নি MH 370 থেকে।

যোগাযোগ হারানোর পরঃ

বিমান গায়েব হবার পরদিন থেকেই শুরু হয় সার্চ অপারেশন। বিমানটির সিগন্যাল কানেকশন, রাডার নেটওয়ার্কিং, স্যাটেলাইট ট্রাকিং সহ অনেক পদ্ধতিতে খোজার পরেও দেখা যায়, সবশেষ ইউ টার্ন নিয়ে বিমানটি আন্দামান সাগরের উপর দিয়ে থাইল্যান্ডের আকাশে উড়ে যায়। সেখান থেকেই মূলত সকল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিমানটির।

হারানো এমএইচ ৩৭০ বিমান

সার্চ অপারেশনঃ

MH 370 বিমানটি উদ্ধারে আমেরিকা, চীন, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া সহ ১২ টি দেশ তাদের সেরা অনুসন্ধানকারী টিমকে বিমানটি খোজার কাজ দেয়। কিন্তু ২৭ হাজার নটিক্যাল মাইল এলাকা খুজেও বিমানের খোজ পাওয়া যায় নি। মনে করা হয়, এটি দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে বিধস্ত হয়েছিল। মহাসাগরের ১লক্ষ ২০ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকার মধ্যেও বিমানের কোন অংশ পাওয়া যায় নি।

প্রতিবেদনঃ

খোজাখুজির পর আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলো একের পর এক প্রতিবেদন দিতে থাকে। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানটির হাইজেক হবার কথা, কেউ বলেন পাইলটের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আত্মহত্যার চেষ্টা, আমেরিকান সেনা কর্তৃক সুট আউট, এলিয়েনদের ব্যবহার কিংবা স্বাভাবিক প্লেন ক্রাস এর মতো নানান ধারণা। সকল পর্যালোচনার পরেও MH 370 এর কোন হদিস মিলে নি। কোন সংস্থাই বলতে পারে নি বিমানটির সম্ভাব্য লোকেশন কোথায় হতে পারে। ২ জন যাত্রীর নকল পরিচয়ে ভ্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়। যার কারণে সন্ত্রাসী হামলার বিষয়টিও মাথা চাড়া দেয়।

হারানো এমএইচ ৩৭০ বিমান

সবশেষ অনুসন্ধানঃ

7 বছর বিভিন্ন অনুসন্ধান করাও পরেও কিছু সম্ভাব্য বিমানের ধ্বংসাবশেস ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায় নি। তবুও কেউ বলতে পারে নি বিমানটি এখন কোথায়।

হারানো এমএইচ ৩৭০ বিমান

রিচার্ড গডফ্রঃ

রিচার্ড গডফ্রে নামের এক অবসরপ্রাপ্ত অ্যারোস্পেস প্রকৌশলী দিলেন নতুন খবর। রেডিও প্রযুক্তির ক্যালকুলেশনের মাধ্যমে তিনি নাকি খুজে পেয়েছেন হারিয়ে যাওয়া MH 370 বিমানের সম্ভাব্য অবস্থান। তার মতে বিমানটি সপ্তম আর্কে পৌছানোর পর ফুয়েল ও জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ায় বিমানটি সোজা সাগরের ৪ কিলোমিটার গভীরে তলিয়ে যায়।। কিন্তু এর আগে সাগরে অনেক খোজাখুজি করার পরের কিন্তু কিছুই পাওয়া যায় নি। ওসেন ইনফিনিটি এর অনুসন্ধানে হয়তো ওই জায়গা ধরাই হয় নি। কিন্তু গডফ্র তার গবেষণাতে এতো আত্মবিশ্বাসী যে, ৪০ নটিক্যাল মাইল দেখিয়ে নির্দিষ্ট করে বলেছেন ওইখানে আছে বিমানটি। তাই তিনি ওই জায়গায় নতুন করে সার্চ করার আবেদন জানান। তিনি বলেন অন্তত ১ বছর লাগবে বিমানটি খুঁজে পেতে। ২০২২ সালের শেষের দিকে বিমানটি খুঁজে পাওয়ার কথা বলছেন তিনি।

হারানো এমএইচ ৩৭০ বিমান

বর্তমান অবস্থানঃ

অবশেষে রিচার্ড গডফ্রের অনুসন্ধানকে পুঁজি করে ওসেন ইনফিনিটি দায়িত্ব নেয় দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে প্লেনটি খোজার জন্য। এক প্রফেসর বিমানটির ধ্বংসাবশেস খুজে বের করার জন্য সমুদ্রের স্রোত অধ্যায়ণ করেছেন। এ বছর জুন মাসে তিনি গণমাধ্যমে জানান অন্তত ব্লাকবক্স গুলো খুজে পেলেও তারা গবেষণা করে বলতে পারবে আসলেই কি ঘটেছিল বিমানটির সাথে।

যদি কখনো প্লেনটির ব্লাকবক্স গুলো খুজে পাওয়া যায় তাহলেই খুলবে এমএইচ ৩৭০ বিমানের হারানোর সত্য ঘটনা।

See more>>>

চাঁদের মাটিতে বিরল ধাতু

ট্যাগস :

হারানো এমএইচ ৩৭০ বিমান

আপডেট সময় : 10:45:43 pm, Tuesday, 20 September 2022

হারানো এমএইচ ৩৭০ বিমান-বিমান গায়েব হয়ে যাবার ঘটনা অনেকে বিশ্বাস করেন না। কিন্তু বিজ্ঞান, অনুমান, সার্চ অপারেশন কিংবা গবেষণা কোনটাই খুজে পায় নি ৮ বছর আগে আকাশ থেকে হারিয়ে যাওয়া MH 370 বিমানের সন্ধান দিতে। পৃথিবীর অনেক অমীমাংসিত ঘটনার মধ্যে একটা হলো মালয়েশিয়ার বিমান এমএইচ ৩৭০ হারিয়ে যাওয়া।

হারানো এমএইচ ৩৭০ বিমান

এমএইচ ৩৭০ বিমান ২০১৪ সালের ৮ ই মার্চ কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিং এর দিয়ে যাত্রা শুরু করে।
বোয়িং বিমানটি যেন আকাশেই শুণ্যে মিলিয়ে গিয়েছিল সেইদিন। এই বিমান রাত ১২ টা ৪১ মিনিটে কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর থেকে ২২৭ জন যাত্রী ও ১২ জন ক্রু সদস্য নিয়ে বেইজিং এর দিকে উড়ে যায়। কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, এই বিমান কিন্তু আজও তার যাত্রা শেষ করে নি। এই বিমান এখন কোথায় আছে তাও জানেন না কেউ। চলুন একটু বিস্তারিত জেনে নেই।

শেষ বার্তাঃ

ভোর ৬টার দিকে বেইজিং বিমানবন্দরে পৌছানোর কথা ছিল বিমানটির।কিন্তু উড়াল দেবার ১ঘন্টা পরে বিমানটির সাথে কন্ট্রোল অফিসের সকল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সংযোগ বিচ্ছিন্ন হবার আগ পর্যন্ত বিমান থেকে কোনপ্রকার বিপদ সংকেত কিংবা বিশেষ সংকেত কন্ট্রোল ইউনিটে পাঠানো হয় নি। পরে জানা যায়, রাত ১টা ১৯ মিনিটে শেষ বার্তা আসে কো-পাইলটের কাছ থেকে। এই বার্তাটি পাঠানো হয় বেইজিং এর Ho Chi Minh বিমানবন্দরে। কো-পাইলট বলেছিলেন, ” 12.9 GOODNIGHT “। যার মানে হল” সব ঠিক আছে, শুভরাত্রি”।

হারানো এমএইচ ৩৭০ বিমান

শেষ যোগাযোগঃ

কো-পাইলটের বার্তা আসার ২ মিনিট পর রাত ১ টা ২১ মিনিটে ভিয়েতনামের দক্ষিণে প্রবেশ করার পর সব সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিমান তখন ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতায় উপরে ছিল। কোন প্রকার যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না বিমানের । পাইলট বিপদ বুঝতে পারলে কন্ট্রোল রুমে ” May Day ” সংকেত পাঠায়। যার অর্থ হল ” সাহায্য চাই”। এই রকম কোন সংকেত আসে নি MH 370 থেকে।

যোগাযোগ হারানোর পরঃ

বিমান গায়েব হবার পরদিন থেকেই শুরু হয় সার্চ অপারেশন। বিমানটির সিগন্যাল কানেকশন, রাডার নেটওয়ার্কিং, স্যাটেলাইট ট্রাকিং সহ অনেক পদ্ধতিতে খোজার পরেও দেখা যায়, সবশেষ ইউ টার্ন নিয়ে বিমানটি আন্দামান সাগরের উপর দিয়ে থাইল্যান্ডের আকাশে উড়ে যায়। সেখান থেকেই মূলত সকল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিমানটির।

হারানো এমএইচ ৩৭০ বিমান

সার্চ অপারেশনঃ

MH 370 বিমানটি উদ্ধারে আমেরিকা, চীন, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া সহ ১২ টি দেশ তাদের সেরা অনুসন্ধানকারী টিমকে বিমানটি খোজার কাজ দেয়। কিন্তু ২৭ হাজার নটিক্যাল মাইল এলাকা খুজেও বিমানের খোজ পাওয়া যায় নি। মনে করা হয়, এটি দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে বিধস্ত হয়েছিল। মহাসাগরের ১লক্ষ ২০ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকার মধ্যেও বিমানের কোন অংশ পাওয়া যায় নি।

প্রতিবেদনঃ

খোজাখুজির পর আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলো একের পর এক প্রতিবেদন দিতে থাকে। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানটির হাইজেক হবার কথা, কেউ বলেন পাইলটের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আত্মহত্যার চেষ্টা, আমেরিকান সেনা কর্তৃক সুট আউট, এলিয়েনদের ব্যবহার কিংবা স্বাভাবিক প্লেন ক্রাস এর মতো নানান ধারণা। সকল পর্যালোচনার পরেও MH 370 এর কোন হদিস মিলে নি। কোন সংস্থাই বলতে পারে নি বিমানটির সম্ভাব্য লোকেশন কোথায় হতে পারে। ২ জন যাত্রীর নকল পরিচয়ে ভ্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়। যার কারণে সন্ত্রাসী হামলার বিষয়টিও মাথা চাড়া দেয়।

হারানো এমএইচ ৩৭০ বিমান

সবশেষ অনুসন্ধানঃ

7 বছর বিভিন্ন অনুসন্ধান করাও পরেও কিছু সম্ভাব্য বিমানের ধ্বংসাবশেস ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায় নি। তবুও কেউ বলতে পারে নি বিমানটি এখন কোথায়।

হারানো এমএইচ ৩৭০ বিমান

রিচার্ড গডফ্রঃ

রিচার্ড গডফ্রে নামের এক অবসরপ্রাপ্ত অ্যারোস্পেস প্রকৌশলী দিলেন নতুন খবর। রেডিও প্রযুক্তির ক্যালকুলেশনের মাধ্যমে তিনি নাকি খুজে পেয়েছেন হারিয়ে যাওয়া MH 370 বিমানের সম্ভাব্য অবস্থান। তার মতে বিমানটি সপ্তম আর্কে পৌছানোর পর ফুয়েল ও জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ায় বিমানটি সোজা সাগরের ৪ কিলোমিটার গভীরে তলিয়ে যায়।। কিন্তু এর আগে সাগরে অনেক খোজাখুজি করার পরের কিন্তু কিছুই পাওয়া যায় নি। ওসেন ইনফিনিটি এর অনুসন্ধানে হয়তো ওই জায়গা ধরাই হয় নি। কিন্তু গডফ্র তার গবেষণাতে এতো আত্মবিশ্বাসী যে, ৪০ নটিক্যাল মাইল দেখিয়ে নির্দিষ্ট করে বলেছেন ওইখানে আছে বিমানটি। তাই তিনি ওই জায়গায় নতুন করে সার্চ করার আবেদন জানান। তিনি বলেন অন্তত ১ বছর লাগবে বিমানটি খুঁজে পেতে। ২০২২ সালের শেষের দিকে বিমানটি খুঁজে পাওয়ার কথা বলছেন তিনি।

হারানো এমএইচ ৩৭০ বিমান

বর্তমান অবস্থানঃ

অবশেষে রিচার্ড গডফ্রের অনুসন্ধানকে পুঁজি করে ওসেন ইনফিনিটি দায়িত্ব নেয় দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে প্লেনটি খোজার জন্য। এক প্রফেসর বিমানটির ধ্বংসাবশেস খুজে বের করার জন্য সমুদ্রের স্রোত অধ্যায়ণ করেছেন। এ বছর জুন মাসে তিনি গণমাধ্যমে জানান অন্তত ব্লাকবক্স গুলো খুজে পেলেও তারা গবেষণা করে বলতে পারবে আসলেই কি ঘটেছিল বিমানটির সাথে।

যদি কখনো প্লেনটির ব্লাকবক্স গুলো খুজে পাওয়া যায় তাহলেই খুলবে এমএইচ ৩৭০ বিমানের হারানোর সত্য ঘটনা।

See more>>>

চাঁদের মাটিতে বিরল ধাতু