ঢাকা 11:35 am, Saturday, 4 February 2023

বীরশ্রেষ্ঠর সংক্ষিপ্ত জীবন পরিচিতি

  • আপডেট সময় : 04:23:51 pm, Monday, 3 October 2022 56 বার পড়া হয়েছে

বীরশ্রেষ্ঠর সংক্ষিপ্ত জীবন পরিচিতি-১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ গেজেটের একটি অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই পদকপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে এই পদক দেয়া হয়েছে । বীর শ্রেষ্ঠ বীরত্বের জন্য প্রদত্ত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক পুরস্কার । যুদ্ধক্ষেত্রে অতুলনীয় সাহস ও আত্মত্যাগের নিদর্শন স্থাপনকারী যোদ্ধার স্বীকৃতিস্বরূপ এই পদক দেয়া হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পরই এই পদকগুলো দেয়া হয়। গুরুত্বের ক্রমানুসারে বীরত্বের জন্য প্রদত্ত বাংলাদেশের অন্যান্য সামরিক পদক হল; বীর উত্তম, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক।

1. সিপাহি মোস্তফা কামাল

জন্মঃ ১৯৪৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর। ভোলা জেলার পশ্চিম হাজিপুর থানার দৌলত গ্রামে।

কর্মস্থলঃ সেনাবাহিনী।

পদবিঃ সিপাহি।

সেক্টরঃ ৮ নং সেক্টর।

বীরশ্রেষ্ঠর সংক্ষিপ্ত জীবন পরিচিতি

মৃত্যুঃ ১৯৭১ সালের ৮ ই এপ্রিল।

সমাধিস্থলঃ ব্রাক্ষণবাড়িয়া আখাউড়ার দরুইন গ্রামে।

যেভাবে শহীদ হনঃ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অভিজান প্রতিহত করতে গিয়ে শহিদ হন।

2. ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ

জন্মঃ ১৯৪৩ সালের ১ মে। ফরিদপুর জেলার বোয়ালিমারী থানার সালামতপুর গ্রামে।

কর্মস্থলঃ ই পি আর।

পদবিঃ ল্যান্স নায়েক।

সেক্টরঃ ১ নং সেক্টর।

মৃত্যুঃ ১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল।

বীরশ্রেষ্ঠর সংক্ষিপ্ত জীবন পরিচিতি

সমাধিস্থলঃ চট্টগ্রামের কালুরঘাটের চিংড়িখালী নদীর তীরে।

যেভাবে শহীদ হনঃ প্রতিরক্ষা ব্যারেজ অক্ষুণ্ণ তাখতে গিয়ে হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ লাগে এবং পালায়নরত হানাদার বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন।

3. ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান

জন্মঃ ১৯৪১ সালের ২৯ অক্টোবর। নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার রামনগর গ্রামে।

কর্মস্থলঃ বিমান বাহিনী। যোগদানঃ ১৯৬৩ সালে।

পদবিঃ লেফটেন্যান্ট।

সেক্টরঃ পাকিস্তানে কর্মরত ছিলেন।

মৃত্যুঃ ২০ আগস্ট ১৯৭১ সালে।

সমাধিস্থলঃ বর্তমান মিরপুর বুদ্ধিজীবি কবরস্থানে । ২০০৬ সালে ২৪ জুন তার মৃতদেহ বাংলাদেশে আনা হয় & ২৫ জুন তাকে কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

বীরশ্রেষ্ঠর সংক্ষিপ্ত জীবন পরিচিতি

যেভাবে শহীদ হনঃ যুদ্ধের সময় তিমি পশ্চিম পাকিস্তানে কর্মরত ছিলেন। তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মাশরুর ঘাঁটি থেকে ১টি ট- ৩৩ জঙ্গি বিমান ছিনিয়ে নেন & বাংলাদেশের পথে রওনা দেন। কিন্তু সিন্ধু প্রদেশের মরু অঞ্চলে বিমানটি বিধ্বস্ত হলে তিনি শহীদ হন।

4. ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ

জন্মঃ ২৬ এপ্রিল ১৯৩৬ সালে। নরাইল জেলার মহেষখোলা গ্রামে।

কর্মস্থলঃ ই পি আর।
যোগদান করেন: ১৯৫৯ সালে।

পদবিঃ ল্যান্স নায়েক।

সেক্টরঃ ৮ নং সেক্টর।

মৃত্যুঃ ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ সালে।

সমাধিস্থলঃ যোশরের গোয়ালহাটি নামক স্থানে।

যেভাবে শহীদ হনঃ ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ৮ নং সেক্টরএ স্থায়ী টহলে নিয়োজিত থাকার সময় হানাদার বাহিনী কতৃক ত্রিমুখী আক্রমণ এর মুখে পড়ে যান। এতে সঙ্গীদের বাঁচাতে গিয়ে শহীদ হন।

5. সিপাহি হামিদুর রহমান

জন্মঃ ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৩ সালে। ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানার খালিশপুর গ্রামে।

কর্মস্থলঃ সেনাবাহিনী।
যোগদানঃ ১৯৭০ সালে।

পদবিঃ সিপাহি।

সেক্টরঃ ৪ নং সেক্টর।

বীরশ্রেষ্ঠর সংক্ষিপ্ত জীবন পরিচিতি

মৃত্যুঃ ২৮ অক্টোবর, ১৯৭১ সালে।

সমাধিস্থলঃ ভারতের আমবাসা নামক স্থানে ছিল৷ । বর্তমানে বাংলাদেশের মিরপুর বুদ্ধিজীবি কবরস্থানে।

যেভাবে শহীদ হনঃ ১৯৭০ সালের৷ ২ অক্টোবর সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। পাকহানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করতে গিয়ে শাহাদাত বরণ করেন।

6. লিডার রুহুল আমিন

জন্মঃ ১৮৩৪ সালে। নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানায়।

কর্মস্থলঃ নৌ- বাহিনী।

পদবিঃ ইঞ্জিনিয়ার।

সেক্টরঃ১০ নং সেক্টর।

মৃত্যুঃ ১০ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে।

সমাধিস্থলঃ খুলনার রুপসা নদীর তীরে কবর দেওয়া হয়।

বীরশ্রেষ্ঠর সংক্ষিপ্ত জীবন পরিচিতি

যেভাবে শহীদ হনঃ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী দ্বারা পরিচালিত বিমান হামলায় জাহাজের ইঞ্জিনে আগুন লাগায় তিনি সেখানেই পুড়ে মারা যান।

7. ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর

জন্মঃ ১৯৪৯ সালে। বরিশাল জেলায়।

কর্মস্থলএ যোগদানঃ ১৯৬৭ সালে।

পদবিঃ ক্যাপ্টেন।

সেক্টরঃ ৭নং সেক্টর।

বীরশ্রেষ্ঠর সংক্ষিপ্ত জীবন পরিচিতি

মৃত্যুঃ ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে।

সমাধিস্থলঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ প্রাঙ্গনে।

যেভাবে শহীদ হনঃ ১৪ ডিসেম্বর পাকাহানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করেন। এসময় পাক- বাহিনী পিছু হাটলে তিনি তাদের পিছু দেন। সেসময় পাকগ বাহিনীর একটা বুলেট কপালে বিদ্ধ হলে তিনি মারা যান।

See More Post>>>

বিশ্বের সকল শীর্ষ দশ

ট্যাগস :

বীরশ্রেষ্ঠর সংক্ষিপ্ত জীবন পরিচিতি

আপডেট সময় : 04:23:51 pm, Monday, 3 October 2022

বীরশ্রেষ্ঠর সংক্ষিপ্ত জীবন পরিচিতি-১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ গেজেটের একটি অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই পদকপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে এই পদক দেয়া হয়েছে । বীর শ্রেষ্ঠ বীরত্বের জন্য প্রদত্ত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক পুরস্কার । যুদ্ধক্ষেত্রে অতুলনীয় সাহস ও আত্মত্যাগের নিদর্শন স্থাপনকারী যোদ্ধার স্বীকৃতিস্বরূপ এই পদক দেয়া হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পরই এই পদকগুলো দেয়া হয়। গুরুত্বের ক্রমানুসারে বীরত্বের জন্য প্রদত্ত বাংলাদেশের অন্যান্য সামরিক পদক হল; বীর উত্তম, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক।

1. সিপাহি মোস্তফা কামাল

জন্মঃ ১৯৪৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর। ভোলা জেলার পশ্চিম হাজিপুর থানার দৌলত গ্রামে।

কর্মস্থলঃ সেনাবাহিনী।

পদবিঃ সিপাহি।

সেক্টরঃ ৮ নং সেক্টর।

বীরশ্রেষ্ঠর সংক্ষিপ্ত জীবন পরিচিতি

মৃত্যুঃ ১৯৭১ সালের ৮ ই এপ্রিল।

সমাধিস্থলঃ ব্রাক্ষণবাড়িয়া আখাউড়ার দরুইন গ্রামে।

যেভাবে শহীদ হনঃ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অভিজান প্রতিহত করতে গিয়ে শহিদ হন।

2. ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ

জন্মঃ ১৯৪৩ সালের ১ মে। ফরিদপুর জেলার বোয়ালিমারী থানার সালামতপুর গ্রামে।

কর্মস্থলঃ ই পি আর।

পদবিঃ ল্যান্স নায়েক।

সেক্টরঃ ১ নং সেক্টর।

মৃত্যুঃ ১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল।

বীরশ্রেষ্ঠর সংক্ষিপ্ত জীবন পরিচিতি

সমাধিস্থলঃ চট্টগ্রামের কালুরঘাটের চিংড়িখালী নদীর তীরে।

যেভাবে শহীদ হনঃ প্রতিরক্ষা ব্যারেজ অক্ষুণ্ণ তাখতে গিয়ে হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ লাগে এবং পালায়নরত হানাদার বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন।

3. ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান

জন্মঃ ১৯৪১ সালের ২৯ অক্টোবর। নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার রামনগর গ্রামে।

কর্মস্থলঃ বিমান বাহিনী। যোগদানঃ ১৯৬৩ সালে।

পদবিঃ লেফটেন্যান্ট।

সেক্টরঃ পাকিস্তানে কর্মরত ছিলেন।

মৃত্যুঃ ২০ আগস্ট ১৯৭১ সালে।

সমাধিস্থলঃ বর্তমান মিরপুর বুদ্ধিজীবি কবরস্থানে । ২০০৬ সালে ২৪ জুন তার মৃতদেহ বাংলাদেশে আনা হয় & ২৫ জুন তাকে কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

বীরশ্রেষ্ঠর সংক্ষিপ্ত জীবন পরিচিতি

যেভাবে শহীদ হনঃ যুদ্ধের সময় তিমি পশ্চিম পাকিস্তানে কর্মরত ছিলেন। তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মাশরুর ঘাঁটি থেকে ১টি ট- ৩৩ জঙ্গি বিমান ছিনিয়ে নেন & বাংলাদেশের পথে রওনা দেন। কিন্তু সিন্ধু প্রদেশের মরু অঞ্চলে বিমানটি বিধ্বস্ত হলে তিনি শহীদ হন।

4. ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ

জন্মঃ ২৬ এপ্রিল ১৯৩৬ সালে। নরাইল জেলার মহেষখোলা গ্রামে।

কর্মস্থলঃ ই পি আর।
যোগদান করেন: ১৯৫৯ সালে।

পদবিঃ ল্যান্স নায়েক।

সেক্টরঃ ৮ নং সেক্টর।

মৃত্যুঃ ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ সালে।

সমাধিস্থলঃ যোশরের গোয়ালহাটি নামক স্থানে।

যেভাবে শহীদ হনঃ ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ৮ নং সেক্টরএ স্থায়ী টহলে নিয়োজিত থাকার সময় হানাদার বাহিনী কতৃক ত্রিমুখী আক্রমণ এর মুখে পড়ে যান। এতে সঙ্গীদের বাঁচাতে গিয়ে শহীদ হন।

5. সিপাহি হামিদুর রহমান

জন্মঃ ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৩ সালে। ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানার খালিশপুর গ্রামে।

কর্মস্থলঃ সেনাবাহিনী।
যোগদানঃ ১৯৭০ সালে।

পদবিঃ সিপাহি।

সেক্টরঃ ৪ নং সেক্টর।

বীরশ্রেষ্ঠর সংক্ষিপ্ত জীবন পরিচিতি

মৃত্যুঃ ২৮ অক্টোবর, ১৯৭১ সালে।

সমাধিস্থলঃ ভারতের আমবাসা নামক স্থানে ছিল৷ । বর্তমানে বাংলাদেশের মিরপুর বুদ্ধিজীবি কবরস্থানে।

যেভাবে শহীদ হনঃ ১৯৭০ সালের৷ ২ অক্টোবর সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। পাকহানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করতে গিয়ে শাহাদাত বরণ করেন।

6. লিডার রুহুল আমিন

জন্মঃ ১৮৩৪ সালে। নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানায়।

কর্মস্থলঃ নৌ- বাহিনী।

পদবিঃ ইঞ্জিনিয়ার।

সেক্টরঃ১০ নং সেক্টর।

মৃত্যুঃ ১০ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে।

সমাধিস্থলঃ খুলনার রুপসা নদীর তীরে কবর দেওয়া হয়।

বীরশ্রেষ্ঠর সংক্ষিপ্ত জীবন পরিচিতি

যেভাবে শহীদ হনঃ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী দ্বারা পরিচালিত বিমান হামলায় জাহাজের ইঞ্জিনে আগুন লাগায় তিনি সেখানেই পুড়ে মারা যান।

7. ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর

জন্মঃ ১৯৪৯ সালে। বরিশাল জেলায়।

কর্মস্থলএ যোগদানঃ ১৯৬৭ সালে।

পদবিঃ ক্যাপ্টেন।

সেক্টরঃ ৭নং সেক্টর।

বীরশ্রেষ্ঠর সংক্ষিপ্ত জীবন পরিচিতি

মৃত্যুঃ ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে।

সমাধিস্থলঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ প্রাঙ্গনে।

যেভাবে শহীদ হনঃ ১৪ ডিসেম্বর পাকাহানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করেন। এসময় পাক- বাহিনী পিছু হাটলে তিনি তাদের পিছু দেন। সেসময় পাকগ বাহিনীর একটা বুলেট কপালে বিদ্ধ হলে তিনি মারা যান।

See More Post>>>

বিশ্বের সকল শীর্ষ দশ